ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও তিনি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বিশেষ করে স্বজন হারানো ও নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়ানো পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পর এক আবেগঘন বার্তায় মেসি দেশটির মানুষের প্রতি নিজের সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। তাঁর এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মেসি বলেন, “ভেনেজুয়েলার সব মানুষের প্রতি আমি অনেক ভালোবাসা পাঠাতে চাই। আমরা জানি তারা এখন কত ভয়াবহ দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই তাদের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সমর্থন জানাতে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে পাচ্ছে না এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার সমর্থন ও ভালোবাসা রইল। আমি আশা করি তারা এই কঠিন সময় অতিক্রম করার শক্তি পাবে।”
জানা গেছে, গত জুন মাসে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বহু মানুষ নিহত ও আহত হন এবং অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দুর্যোগের পর বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সংগঠন ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির সংহতির বার্তাও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফুটবল মাঠে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন মেসি। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে অতীতেও তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবারও ভেনেজুয়েলার মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিক বার্তা বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদদের এমন মানবিক বার্তা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনোবল বাড়ায় না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন উদ্যোগ দুর্যোগ-পরবর্তী মানবিক সহায়তা ও বৈশ্বিক সংহতির বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে।