নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়াল মিসর জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অবস্থানকালীন হোটেলের সামনে স্থানীয় পুলিশের সাথে হাতাহাতি ও তুমুল হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও তার ভাই সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান।
খেলার মাঠের বাইরের এই অপ্রীতিকর ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল সমালোচনা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ডালাসে মিসর দল যে হোটেলে অবস্থান করছে, তার সামনে এক খুদে ভক্ত দলের তারকা ফুটবলার ত্রেজেগের (Trézéguet) অটোগ্রাফ নিতে এবং তার সাথে ছবি তুলতে এগিয়ে আসে। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত কড়াভাবে সেই খুদে ভক্তকে বাধা দেয়।
কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ এবং আর্জেন্টিনার ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ জানিয়েছে, পুলিশের এমন রুক্ষ আচরণে প্রথমেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিসর দলের সহকারী কোচ ও প্রধান কোচের ভাই ইব্রাহিম হাসান। পুলিশের বাধার ধরণ নিয়ে তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং তাদের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন এক পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহিম হাসানকে ধাক্কা দেন। ভাইয়ের ওপর এমন আচরণ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনিও দ্রুত সেখানে এগিয়ে যান এবং ঘটনার প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে মিসরীয় কোচ ও কর্মকর্তাদের তুমুল ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা অত্যন্ত আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মিসর দলের সদস্যদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, সেই পুলিশের অন্যান্য সহকর্মীরাই তখন তাকে টেনে ধরে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
পরবর্তীতে হোটেলের আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষ ও দুই পক্ষের বাকি সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর প্রধান কোচ হোসাম হাসানসহ ফুটবলারদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। নকআউট পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের এমন মানসিক বিপর্যয় মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।